ব্রেকিং নিউজ

x


বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছেন নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছেন নওগাঁর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা
ছবিঃ সংগ্রহিত।

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নওগাঁ জেলায় ২৮ হাজার ৩৯৭ পরিবারে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৬ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বাস। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের মতে নওগাঁয় প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বাস।

এ সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে উরাও, পাহান, সান্তাল, রাজোয়ার, ভুঁইয়া, মাহাতো, তুরি, মাহালি ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এদের শতকরা ৯৮ ভাগই কৃষিমজুর। কৃষি বহির্ভূত কাজে তাদের দক্ষতা না থাকা এবং বছরের অর্ধেক সময় মাঠে কৃষি কাজ না থাকায় এ সময়গুলোতে তাদের চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়। এ সময় তারা আগাম শ্রম বিক্রয়, সুদের উপর টাকা নিয়ে, ধার দেনা করে এবং অর্ধাহারে থেকে দিনাতিপাত করতে বাধ্য হন। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অচল হয়ে পড়ে পত্নীতলায় বসবাসরত প্রায় ৩৫ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবন।



ঘরের খাবার না থাকা এবং হাতে কোন কাজ না থাকায় চরম সংকটে পড়ে পরিবারগুলো। আয় উপার্জনের কোন পথ না থাকায় চোখে শর্ষে ফুল দেখতে শুরু করেন। করোনাকালীন প্রভাব মোকাবিলার মাধ্যমে যাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারগুলো জীবনের চাকা সচল রাখতে পারে সে লক্ষ্যে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও) মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন “ডিগনিটি এ- লিডারশীপ ডেভেলপমেন্ট অব ইথনিক মাইনোরিটি” প্রকল্পের আওতায় কেঁচো সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, মুরগী পালন এবং বাড়ির ছাদে ও খোলা জায়গায় সবজি চাষের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের পথ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।

এ সব বিকল্প আয় বৃদ্ধিমুলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা পরিবারে বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছে। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার পত্নীতলা ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে রায়মুনি পাহান নামে এক নারী কেঁচো সারের পরিচর্যা করছেন। আলাপচারিতায় তিনি জানান, গত প্রায় ১ বছরে তিনি ৮মণ কেঁচো সার তৈরি করেছেন। ৭ মণ সার তিনি জমিতে ব্যবহার করেছেন এবং ৫৪০ টাকায় ১মণ সার বিক্রয় করেছেন। ১ হাজার ২৮০ টাকায় তিনি ৮শত গ্রাম কেঁচো বিক্রয় করেছেন। শ্যামলি পাহান জানান, তিনি ৪৫০ টাকায় ১ মণ সার বিক্রয় করেছেন এবং ১ হাজার ৬শত টাকায় ১ কেজি কেঁচো বিক্রয় করেছেন।

শুধু তাঁরাই নয়, বিএসডিও’র সহযোগিতায় উপজেলা কৃষি বিভাগ হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামের ১৩ জন নারী পরিবেশ বান্ধব কেঁচো সার তৈরি ও বিক্রয় করে বাড়তি উপার্জন করছেন। বাড়তি আয়ের যোগান দেওয়ার পরিবারে তাদের গুরুত্ব বেড়েছে। এই সার তৈরিতে বাড়তি কোন খরচ ও সময় লাগে না বলেও জানান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এই নারীরা। সবজি বাগান পরিচর্যার সময় কথা হয় সুমতি উরাও এর সাথে। তিনি জানান, বিএসডিও হতে বীজ পেয়ে তিনি বাড়ির সামনের পতিত জমিতে লাল শাক, পালংক শাক, ধনিয়া, কপি, রসুন, টমেটো লাগিয়েছেন। এই সবজি ক্ষেতে তিনি কেঁচো সার ব্যবহার করেছেন। উৎপাদিত সবজি নিজেরা খাচ্ছেন এবং বাজারে বিক্রয় করে বাড়তি আয় করছেন। সবজির পাশাপাশি অনেকেই বিএসডিও’র সহায়তায় দেশী জাতের মুরগী লালন পালন করে লাভবান হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে পত্নীতলা ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইছাহাক হোসেন বলেন, বিএসডিও’র মাধ্যমে তিনি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের কেঁচো সার তৈরি ও বসত বাড়িতে সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। পরিবেশ বান্ধব কেঁচো সার জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। রাসায়নিক সারের চেয়ে কেঁচো সার সাশ্রয়ী। এটা মানুষের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি করে না। জমির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পর পর একটি জমিতে ৩ বার কেঁচো সার ব্যবহার করলে পরবর্তীতে আর সার প্রয়োগের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। পরিবেশ সুরক্ষায় বিএসডিও’র এ ধরণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বিএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রউফ জানান, কর্ম এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও জীবন মানের পরিবর্তনে বিএসডিও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষি কাজে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তাদের জন্য কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই কর্মসূচীর মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তীতে কর্মকাণ্ডের পরিসর বাড়ানো হবে। বর্তমানে কর্ম এলাকার ২শত টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার কেঁচো সার তৈরি, ১৪৭টি পরিবার মুরগী পালন এবং ১৫০টি পরিবার বসত বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে পরিবারে বাড়তি আয়ের যোগান দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ সময়: ৯:০০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »