ব্রেকিং নিউজ

x


মজলুম জননেতা, উপমহাদেশের রাজনীতি র প্রবাদ পুরুষ, ইতিহাসের মহানায়ক আমাদের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।

শনিবার, ২০ জুন ২০২০ | ৫:২২ অপরাহ্ণ

মজলুম জননেতা, উপমহাদেশের রাজনীতি র প্রবাদ পুরুষ, ইতিহাসের মহানায়ক আমাদের মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী

চীন থেকে ফিরতি পথে পাকিস্তানে নেমেছিলেন আমাদের ভাসানী। পাকিস্তানের করাচির মেয়র এক নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছিলেন আমাদের ভাসানীকে। জননেতা মাওলানা আব্দুল ভাসানীর মাথায় তালের টুপি আর পরনে ছিল লুঙ্গি, স্টেজে উঠেছেন ভাষণ দিতে…. ভাসানীর বেশ ভূষা দেখে দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে গুনগুন মন্তব্য “ইয়ে তো মিসকিন হ্যায়”..!!

কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে ভাসানীর বক্তব্য শুরু হতেই ওই শ্রোতাদের কণ্ঠে আরেকটি মন্তব্য ভেসে এলো “ইয়ে তো মাওলানা হ্যায় “..!! ভাসানীর রাজনৈতিক বক্তব্য শুরু হতেই ঐ একই দর্শক শ্রোতারা বলে উঠলেন “আরি বাহ্ ইয়ে তো পলিটিশিয়ান হ্যায়”..!! ভাসানী যখন বিশ্ব পরিস্থিতি ও বিশ্ব মোড়লদের শোষণ পীড়ন নিপীড়নের কথা বলতে শুরু করলেন তখন ঐ একই দর্শক শ্রোতারাই বলে উঠলেন “হায় আল্লাহ ইয়ে তো এস্টেট মেন হ্যায়”..!!



হ‍্যা তিঁনিই ছিলেন, আমাদের আজকের এই আওয়ালীগ এর প্রতিষ্টাতা সভাপতি, ইওেফাক পএিকার স্থপতি, বাংলার মুকুট-বিহীন অবিসংবাদিত নেতা। ১৯৪৭ইং সালে যখন পাকিস্তান-ভারত ভাগ হয়, তখন সিলেটকে ভারত দাবী করে। দেশ ভাগের সময় তদনীন্তন পাকিস্তানের নেতারা পশ্চিম পাকিস্তান তথা করাচি ও সীমান্ত রাজ্যগুলো নিয়ে এতই ভ্যাস্ত ছিলেন যে পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশ নিয়ে ভাবনার যেন কেউই ছিলেন না। সেই সময়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিরাই হর্তাকর্তা ছিলেন।
তৎকালীন আসামের এম.এল.এ ছিলেন-মাওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী (যে কারনে তিঁনি ভাসানী)। ইংরেজ বড় ও ছোট লাটদের সাথে দেশ ভাগ নিয়ে যখন জটিলতার সৃষ্টি হয়, তখন অনেক দেন-দরবার হয়। তখন MLA হিসেবে তাঁর উপর সিদ্ধান্তের ভার পরে। তিঁনি বিজ্ঞচিত মতামত দেন। তাঁর মতামত হলো-বর্তমান ভারতের আসাম, করিমগঞ্জ সহ বাংলাদেশের সিলেটের জকিগঞ্জ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ।

তাছাড়া এিপুরার রাজধানী ছিল কুমিল্লা। এিপুরা কখনোই ভারতের অংশ ছিল না। (এিপুরার সতন্ত্র রাজ্য ছিল, যদিও তৎকালনীন হিন্দু রাজা, এিপুরা ও কাশ্মিরকে ভারতের অংশ করতে কখনোই চাননি)। ভাসানীর প্রস্তাব ছিল-এ সকল পূর্ব-পাকিস্তানের অংশ হবে। সার্বিক আলোচনায় প্রস্তাব গৃহীত হল-(ভাসানীর প্রস্তাব) ঐ এলাকায় গণভোট হবে। গণভোটের রায়ের ভিওিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। গণভোট হল। গনভোটে বিপুল ভোটার (আসাম,করিমগঞ্জ,সহ) ভাসানী সাবের প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিল।কিন্তু তৎকালীন ভারতের পক্ষের প্রতি নিধিদের ষড়যন্ত্র ও পাকীদের নেতৃত্বের অবহেলাজনিত ভূমিকায় আমরা সিলেট, জকিগঞ্জ পাইলেও বৃহওর আসাম,করিমগঞ্জ এবং এিপুরা হারালাম। মাওলানা ভাসানীর যোগ্য নেতৃত্বের কারনেই আমরা সিলেটকে পেলাম।

তাছাড়া যিনি সারাটা জীবন গরীবের অধিকারের জন্যে, ন্যায়ের জন্যে, সাম্যের জন্যে, মানবতার জন্যে, মানুষের জন্যে লড়াই, সংগ্রাম করেছেন, আমরা ক’জন তাঁর জীবনের ইতিহাস জানি বা ক’জন তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজনীতি, রাজনীতি, ধর্মনীতি, অর্থনীতি মেনে চলি, মানিয়ে চলি বা চালাই। নতুন প্রজন্মের আমাদের সোনা-মনিরাই ক’জনই বা তাঁর জীবনালেখ্য জানে? এমন সোনার মানুষ আমাদের মাটিতে জন্ম গ্রহণ করেছিল বলে আমরা গর্ববোধ করি।

গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রইলো আপনার প্রতি প্রিয় নেতা ।

বাংলাদেশ সময়: ৫:২২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ জুন ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »