ব্রেকিং নিউজ

x


সরাইলে ঠাকুর সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ | ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

সরাইলে ঠাকুর সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর

সরাইলে এবার ঠাকুর সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছেন। উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত হওয়াবহুল আলোচিত ইকবাল আজাদ হত্যা মামলাও পূর্ণরায় চালু হচ্ছে সরাইলের এই ঠাকুর সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি, কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

ঠাকুরের এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। রফিক উদ্দিন ঠাকুর সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। সরাইলের প্রয়াত নেতা ইকবাল আজাদ হত্যাকান্ডের এজাহারভূত মূল আসামী রফিক উদ্দিন ঠাকুর। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ঠাকুর ।
উপজেলার সৈয়দ টুলার মোশারফ উদ্দিন ও কুট্টাপাড়ার আবুল কালাম আজাদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প কাগজে–কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে দরপত্র ও পিআইসি কমিটির মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রফিক উদ্দিন।



তিনি নিজ বাড়ির জন্য উপজেলা ডাক বাংলোর পশ্চিম পাশ দিয়ে সরকারি জায়গার ওপর দিয়ে সরকারি খরচে ২০-২৫ ফুট প্রশস্তের রাস্তা এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে বিনা প্রয়োজনে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। এডিপির প্রকল্পগুলো দরপত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ঠিকাদার পেলেও চেয়ারম্যানের ভাই-ভাতিজা ও সহযোগীরা প্রভাব বিস্তার করে কাজ নিয়ে যান। মহামারি করোনার এই সময়ে উপজেলার নানা শ্রেণির মানুষের জন্য প্রথম দফায় স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী কিনতে ৮০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। কিন্তু ইউএনওকে হাত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান।

লিখিত অভিযোগ থেকে আরও জানা গেছে, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় উপজেলার হালুয়াপাড়া সেতু থেকে আরিফাইল রাস্তার সদর স্কুলসংলগ্ন স্থানে রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শৌচাগারের চাকতি (রিং স্ল্যাব) সরবরাহ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় পাকশিমুল লম্বা ভিটা মসজিদের সামনে ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কালীকচ্ছ মধ্য রাস্তার শাহজাহানের বাড়ির সামনে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল দক্ষিণ বাজার বিএডিসি–সংলগ্ন চেত্রা নদী ও তিতাস নদের পাড় পর্যন্ত গাইড ওয়াল ও র‍্যাম্প  নির্মাণ, ২ লাখ টাকায় অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ পাশে জনগণের ওঠা–নামার জন্য সিড়িসহ ঘাটলা নির্মাণ, ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় উপজেলার লোপাড়া তিতাস রোডের বারেক মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে প্রতিরক্ষা দেয়ালের অবশিষ্ট অংশ নির্মাণ এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুন্টা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পের ও কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই।

চেয়ারম্যান এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া দরপত্র প্রকল্প-১–এর প্যাকেজ-৬ প্রকল্প কালীকচ্ছ নন্দীপাড়া তকদির চেয়ারম্যানের পুকুরে রাস্তার পাশে রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণেরও কোনো অস্তিত্ব নেই। অভিযোগকারী মোশারফ উদ্দিন ও আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিনের আমলে খুন, মারামারি, সরকারি টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে সরাইল অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে খুন, গুম ও মামলার শিকার হতে হয়। তাঁরা বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এডিপির প্রকল্প দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করে থাকেন। আমি কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করব? আমি কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত না। আমি চাই, জেলা প্রশাসক স্বচ্ছতার সঙ্গে বিষয়টি শতভাগ তদন্ত করুক। যারা অভিযোগ করেছে, তারা আমার শত্রু না, বন্ধু মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। ঠিকাদার কাজ করছেন। আর তাঁর বাড়ির রাস্তা পাকা নয়, মাটির কাঁচা রাস্তা। দেয়ালটা হলো বাসভবনের দেয়াল।

ফোন না ধরায় এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াছমীনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা বলেন, সুরক্ষাসামগ্রী দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। যাচাই-বাছাই করে এগুলো অনুমোদন দিয়েছেন। যদি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিনে বাস্তবায়ন হতে দেখেছেন তিনি। সবগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন বলেন, অভিযোগটি দেখে ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »