ব্রেকিং নিউজ

x


সিলেটে সাইবার প্রতারকচক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০ | ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ

সিলেটে সাইবার প্রতারকচক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
সিলেটে সাইবার প্রতারকচক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার- সংগ্রহিত।

সিলেটে সাইবার প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব- ৯। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মো. শরীফুল ইসলাম।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের একটি সাইবার প্রতারকচক্র ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের বিভিন্ন বিত্তবান ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের তথ্য চুরি করে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছিল। এ বিষয়ে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারকচক্রের প্রধান মো. মামুন মিয়া ও আফজালকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯। তাদের অপর সহযোগী জাবের আহম্মেদকে ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। মামুন সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার মান্নারগাঁও গ্রামের মো. মিরাশ আলীর ছেলে। মামুনের সহযোগী রিমন একই থানার গোপালপুর গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে। এদিকে এ চক্রের আরেক প্রতারক জাবের আহম্মেদকে (২৯) এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি র‌্যাব। তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে। জাবের দোয়ারাবাজার থানার বসরপুর গ্রামের তফসির উদ্দিনের ছেলে।



র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তীক্ষ্ণ নজরদারী আর গভীর তদন্তের পর অবশেষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯ টায় বিকাশের টাকা উত্তোলনের সূত্র ধরে র‌্যাবের একটি দল নগরীর চৌকি দেখিতে অভিযান চালিয়ে সাইবার প্রতারকচক্রের প্রধান মামুন মিয়াকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে দুপুর ১১টায় সুনামগঞ্জ থেকে মামুনের অন্যতম সহযোগী আফজাল হোসেন রিমনকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-৯ অধিনায়ক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেঁটে এবং ইউটিউব থেকে হ্যাকিং বিষয়ক ভিডিও দেখে সে হ্যাকিং শিখে। এক পর্যায়ে মামুন হ্যাকিংয়ে দক্ষ হয়ে উঠে এবং একের পর এক প্রবাসী, বিত্তশালী ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে থাকে। হ্যাক করার পর ওই অ্যাকাউন্টের ফ্রেন্ড লিস্ট পর্যবেক্ষণ করে আইডির মূল মালিকের আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুর কাছে অতি প্রয়োজন দেখিয়ে, আকস্মিক কোনো সমস্যা অথবা কোনো দরিদ্র লোকের চিকিৎসার কথা বলে টাকা চাইতো এবং বিকাশের মাধ্যমে সে টাকা নিয়ে আসতো।

পরে সে টাকা মামুন ও তার দুই সহযোগী রিমন ও জাবেরের মাধ্যমে সিলেট এবং সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বিকাশ পয়েন্ট থেকে উত্তোলন করতো। এভাবে অর্থ কামিয়ে উন্নত জীবনযাপন করা এবং অল্প সময়ে ধনী হওয়াই তাদের লক্ষ্য ছিলো। মামুন ও তার দুই সহযোগী মিলে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রতি মাসে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা ইনকাম করতো। সাইবার প্রতারকচক্রের এই তিনজনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »