ব্রেকিং নিউজ

x


সুনামগঞ্জে কবিরাজের কথায় যুবককে নির্যাতন

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সুনামগঞ্জে কবিরাজের কথায় যুবককে নির্যাতন

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কবিরাজের কথায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে সুবেল মিয়া নামে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবকের বাবা বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি জুনু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, পুরানপুঞ্জি গ্রামের ভূমিহীন হারুন মিয়ার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে রুবেল মিয়া ও ছোট ছেলে সুবেল মিয়া। সুবেল দিনমজুর করে সংসার চালায়।

বাড়িতে তার অসুস্থ প্যারালাইজড মায়ের সেবা যত্নও করে। রান্নাবান্নার কাজও করতে হয় তাকে। অভিযুক্তরা সবাই ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। টাকা পয়সা ক্ষমতা কোনটার অভাব নেই তাদের। তাই সাধারণ নিরীহ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে সে। ১০ অক্টোবর রাত ৯টার সময় সুবেল মিয়াকে জরুরি কথা বলার জন্য বাড়ি থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত জুনু মিয়া, মিজান মিয়া, রাজন মিয়া, আল আমিন ও কাজল মিয়া। পরে সুবেলকে জোর করে কাজল মিয়ার বাড়ির একটি রুমে আটক করে রড ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। অভিযুক্ত পাঁচ জন তাকে আড়াই ঘণ্টা আটকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে স্থানীয়রা সুবেলকে উদ্ধার করে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে। এদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুবেল মিয়াকে সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয় ডাক্তার। নির্যাতনের শিকার সুবেল মিয়া বলেন, কবিরাজের কাছ থেকে জুনু মিয়া জানতে পারে যে আমি তার মোবাইল ফোন চুরি করেছি। এ কারণে তারা আমাকে পিটিয়েছে। নির্যাতনের সময় জুনু মিয়া বলে কবিরাজ তোর ছবি দেখিয়ে বলেছে তুই মোবাইল চুরি করেছিস। কবিরাজের কথা মিথ্যে হতে পারে না। তুই আমার মোবাইল বের করে দে, নইলে আরও মারবো তোকে।



সুবেল মিয়ার মামা আরিফ উল্লাহ বলেন, মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দিয়ে কেই এইভাবে নির্যাতন করে। সুবেল মিয়ার উন্নত চিকিৎসা না করালে সে মারা যেতে পারে। সুবেল মিয়ার মা মালেছা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে এমনভাবে পিটিয়েছে যে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেছে। সে আর কোনও কাজ করতে পারবে না। সুবেল মিয়ার বাবা ও মামলার বাদী হারুন মিয়া বলেন, উন্নত চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। জানি না তাকে কিভাবে বাঁচাবো। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির চাই। জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আসামিকে আটক করেছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান চলেছে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »