ব্রেকিং নিউজ

x

হবিগঞ্জে অফুরন্ত সম্ভাবনার লীলাভূমি

রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জে অফুরন্ত সম্ভাবনার লীলাভূমি
হবিগঞ্জে অফুরন্ত সম্ভাবনার লীলাভূমি

হবিগঞ্জ জেলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এ জেলাকে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। প্রকৃতির রম্য নিকেতন বৃহত্তর সিলেটের প্রবেশদ্বার হবিগঞ্জ। পাহাড়, হাওর, নদী এবং চা ও রাবার বাগান, বনজসম্পদ, প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শন, তেল-গ্যাসসহ অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, খাসিয়া, টিপরা উপজাতি এবং মনিপুরীদের বসবাসে সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ।

২৪৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী হবিগঞ্জের উত্তরে সুনামগঞ্জ ও সিলেট, পূর্বে মৌলভীবাজার, দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ভারতের পার্বত্য ত্রিপুরা, পশ্চিমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলা। ৮টি উপজেলা ৭৭টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভা এবং ২ হাজার ১৯৬টি গ্রামের মোট জনসংখ্যা ২১ লাখ। ১৮৭৮ সালে মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হলেও সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার না হওয়ায় হবিগঞ্জে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে ৪ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত হবিগঞ্জ। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যপূর্ণ হবিগঞ্জের ৮টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলাই ভাটি অঞ্চলে।

অর্থাৎ জেলার ৬৫ শতাংশ এলাকাই হাওরে অবস্থিত। বর্ষাকালে ভাটি অঞ্চলের অধিকাংশই ডুবে যায় অথৈ পানিতে। দূর থেকে তখন ছোট গ্রামগুলোকে দেখে মনে হবে হাঁসের মতো পানিতে ভাসছে। এ সময় গ্রামগুলোর যোগাযোগের মাধ্যম ইঞ্জিন নৌকা। বর্ষাকালে হাওর অঞ্চলে নৌকাবাইচ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য উপভোগ্য। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ গ্রাম বানিয়াচং এই জেলায়। এখানে রয়েছে সাগরদীঘি যা রানী কমলাবতীর দীঘি হিসাবে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে বাইরের হামলা থেকে গ্রাম রক্ষার জন্য প্রাচীনকালের গড়ের খাল, রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ, বাংলার স্বাধীন সুলতানি আমলে তৈরি বিবির মোকাম ও পুরানবাগ মসজিদ। বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গলে রয়েছে বিথঙ্গল আখড়া। প্রাচীনকালে এ আখড়ায় ১২০ জন বৈষ্ণব বসবাস করতেন বলে কথিত আছে।

নাগুরায় রয়েছে দেশের সবচেয়ে পুরাতন ধান গবেষণাকেন্দ্র। নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড। এ উপজেলারই দিনারপুর এলাকায় কুরটিলা দর্শনীয় স্থান হিসাবে পরিচিত। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ২৪টি চা বাগান। চা বাগানের নৈসর্গিক দৃশ্য সহজেই দর্শনার্থীদের বিমোহিত করে। বাহুবলের ফয়েজাবাদ হিলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বধ্যভূমি। শাহজীবাজার ও বাহুবলের রূপাইছড়ায় দুটি সরকারি রাবার বাগানসহ কমপক্ষে ১০টি রাবার বাগান রয়েছে। শাহজীবাজার ও রশিদপুরে দুটিসহ জেলায় বড় গ্যাস ফিল্ড রয়েছে তিনটি।

শাহজীবাজার এলাকায় হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের ভেতরে কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলায় হয়েছে ফ্রুটস ভ্যালি। এখানে দেশ-বিদেশের হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির ফল গাছ ও দুর্লভ পশু-পাখি রয়েছে। এখানে আরো রয়েছে একটি সরকারি, দুটি বেসরকারি ও অপর একটি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বুলেট আকৃতির স্মৃতিসৌধ।

যেখান থেকে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইলে রয়েছে ৬০০-৭০০ বছরের পুরনো শঙ্করপাশা শাহী মসজিদ। মাছুলিয়ায় রয়েছে প্রাচীন আখড়া। চুনারুঘাটের মুড়ারবন্দে রয়েছে হযরত শাহজালালের (রঃ) অন্যতম সঙ্গী এই অঞ্চল বিজয়ী হযরত নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার (রঃ), হযরত কুতুবুল আউলিয়াসহ অনেক ওলি-আউলিয়ার মাজার। মাজার এলাকায় শত শত জামগাছ এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।

জেলায় বনভূমির পরিমাণ ৩২ হাজার ৭৭৬ একর। ফয়েজাবাদ, রঘুন্দন, দিনারপুর, কালেঙ্গা পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর আনারস, লেবু, কাঁঠাল, পান-সুপারি উৎপাদিত হয়।আলিয়াছড়া, মুছাই ও বৈরাগীপুঞ্জিতে বাস করে খাসিয়া উপজাতির কয়েকশ পরিবার। সাতছড়ি ও কালেঙ্গায় বাস করে টিপরা উপজাতির কিছুসংখ্যক পরিবার। চুনারুঘাটের বিভিন্ন গ্রামে বাস করে মনিপুরী জনগোষ্ঠী।

নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে বসবাসরত এসব জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবনধারা সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সাতছড়ি পাহাড়ে জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বিভিন্ন মূল্যবান উদ্ভিদ ও জীবজন্তু। চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা রয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় অভয়ারণ্য। আয়তন, বণ্যপ্রাণী ও গাছগাছালির দিকসহ সব দিক দিয়ে সুন্দরবনের পরেই রেমা-কালেঙ্গার স্থান। হবিগঞ্জকে প্রকৃতি সাজিয়েছে অকৃপণভাবে। এ সৌন্দর্যকে তুলে ধরা গেলে অচিরেই হবিগঞ্জ দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

 

বাংলাদেশ সময়: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ জানুয়ারি ২০২০

রয়াল বেঙ্গাল নিউজ.কম |

Development by: webnewsdesign.com

Translate »